যে গ্রাম আর ফিরে আসবে না: ওমর কায়সার

আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর আগে আমাদের দেশটা কেমন ছিল? কেমন ছিল তখনকার গ্রাম, জনপদ, সমাজ ও প্রকৃতির চিত্র। মানুষে মানুষে সম্পর্ক কিংবা জীবন যাপনটাইবা কেমন ছিল? শতাব্দী কাল আগে সেই সময়ের বাংলাদেশকে (তখনকার পূর্ব পাকিস্তান) খুঁজে পেতে চলুন ফিরে যাই চট্টগ্রামের পটিয়া থানার ধলঘাট গ্রামে। সেই সময়ে ধলঘাটের বাসিন্দা কালিচরণ (কল্পিত নাম) । সেখানেই তাঁর জন্ম ।  ধলঘাটের বিবরণ শুনি তাঁর স্মৃতি থেকে— ‘উত্তরে আর দক্ষিণে হারগেজি খাল টেনে দিয়েছে গ্রাম খানির সীমারেখা। পশ্চিমে অবারিত মাঠ মিশে গেছে দিগন্তে, পূর্বে অনুচ্চ করলডেঙ্গা পাহাড় আকাশের দিকে চেয়ে আছে স্থির নেত্রে। চারদিকে মাঠ আর সবুজের প্রাচুর্য। একধারে নদী বয়ে চলেছে কুলুকুলু নাদে, আর একধারে পড়ে আছে ধু-ধু মাঠ, তার বুকের ওপর দিয়ে এঁকে-বেঁকে অগ্রসর হয়েছে গ্রামের বিস্তৃত পথখানি। ছায়াঘন গাছের ফাঁক দিয়ে দেখা যায় ছোট্ট কুটির, মধ্যবিত্তের মাটির দোতলা কোঠা, সান-বাঁধানো ঘাট, গোয়াল, গোলা, পুকুর-দিঘি-বাগান, বাঁশঝাড়। যেন তুলি দিয়ে আঁকা। কোথাও এতটুকু আবর্জনা নেই, কোলাহল নেই, গ্রামবাসীরা মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে, মাঠে চাষ করছে চাষি, জেলে পুকুরে মাছ ধরছে, রাখালেরা বটগাছের তলায় বসে বাঁশি বাজাচ্ছে, কেউ বা খেলছে ডাণ্ডাগুলি, কেউ বা ব্যাট বল দিয়ে খেলছে ক্রিকেট, স্কুলের ছেলে-মেয়েরা বই বগলে করে ছুটছে স্কুলে, ব্যাঙ্কের প্রাঙ্গণে বসেছে সভা, হাসপাতালে রোগীরা দাঁড়িয়ে আছে ভিড় করে, পোস্ট আপিসে পিয়নকে ঘিরে বসেছে গ্রামের লোকগুলো, খোঁজ করছে চিঠির, মানিঅর্ডারের, দোকানগুলিতে জমে উঠেছে আলাপ—রাজনৈতিক, সামাজিক, ঘরোয়া। বর্ষায় যখন চারদিক জলে ভরে যায়, তখন ছবির মতো দেখায় গ্রামখানি। শরতে মাঠে মাঠে যেন সবুজের সীমাহীন রেখা, গ্রীষ্মে চোখে পড়ে ফাঁকা মাঠগুলো, বসন্তে গাছে গাছে ফুটে ওঠে নবযৌবনশ্রী। নিরুপদ্রব একটানা জীবনযাত্রা চলেছে আবহমান কাল ধরে।’

 কিন্তু দুর্ভাগ্য কালি চরণদের এই নিরুপদ্রব জীবন বেশি দিন টিকল না। পিতৃপুরুষের ভিটে মাটি তাদের ছাড়তে হয়েছে। সেই দুঃস্বপ্নের দিনগুলোর কথা ফুটে উঠেছে তার স্মৃতিকথায়। এক ভয়াল রাত। চারদিক ঘুটঘুটে অন্ধকার। রাতের আঁধারের বুক চিরে ফুটে উঠল একটি অস্পষ্ট আলোর রেখা। তারপর গুলির আওয়াজ। একটি গুলি কালি চরণের কানের পাশ দিয়ে বোঁ করে চলে গেল। বুঝতে পারলেন না তিনি কিছুই। কিছুক্ষণ নীরব। তারপর একসঙ্গে শত শত গুলির শব্দ। সকালে থানার দারোগা এলেন। বললেন, রাতে নবীন ঠাকুরের বাড়িতে ঘটনা ঘটেছে, ক্যাপ্টেন ক্যামেরন সাহেব নিহত হয়েছে, চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার আক্রমণকারীদের একজন (নির্মল সেন) আত্মহত্যা করেছেন। কিছুক্ষণ পর ম্যাজিস্ট্রেট সহ সরকারি বাহিনী প্রথমেই হানা দিল কালি চরণদের বাড়িতে। ওদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—  আসামিদের সঙ্গে তাদের সংযোগ আছে। এমন সব মিথ্যা অভিযোগেও পূর্বপুরুষের ভিটের মায়া তারা ছাড়তে পারেননি। গ্রাম থেকে চলে যাওয়ার কথা কখনো ভাবেননি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই গ্রাম তাদের ছাড়তেই হলো।

ব্রিটিশ শাসনের অবসানের সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তান নামে ধর্মভিত্তিক একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের আবির্ভাবের পর দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে এক ভয়াবহ অধ্যায়ের সূচনা হয়। দেশভাগের পর মানচিত্রে বাংলার একটি অংশ পাকিস্তানের অংশ হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান নামে অন্তর্ভুক্ত হলো। পশ্চিম বাংলা থেকে আলাদা হয়ে নতুন সীমানা চিহ্নিত হওয়ার পর বাঙালি হিন্দুদের একটা বিরাট অংশ রাতারাতি এখানে সংখ্যালঘুতে পরিণত হলো।

শত শত বছর ধরে একই মাটিতে একসঙ্গে বসবাস করা মানুষগুলো হঠাৎ করে একে অপরের শত্রুতে পরিণত হয়। ধর্ম ভিত্তিক সেই কৃত্রিম বিভাজন হাজার হাজার পরিবারকে বাস্তুচ্যুত করে। অসংখ্য হিন্দু পরিবার বাধ্য হয় তাদের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি, জমিজমা, গৃহস্থালি ফেলে ভারতে পাড়ি দিতে। কেউ কেউ শুধু গায়ে থাকা কাপড় আর হাতে ধরা সামান্য মালপত্র নিয়ে পাড়ি দেয় সীমান্তের ওপারে। এই বিশাল জনপ্লাবনের সঙ্গে যুক্ত ছিল ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। ট্রেনে, নৌকায়, পদব্রজে-অগণিত মানুষ যাত্রা শুরু করে অনিশ্চিত জীবনের দিকে।

পথে পথে তারা লুণ্ঠন, হত্যা, নারী নির্যাতনের শিকার হন। কেউ হারিয়েছেন সন্তান, কেউ হারিয়েছেন পিতা, মাতা অভিভাবক।  অনেকে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি, কেউ সীমান্তেই প্রাণ হারিয়েছেন। ভারতে পৌঁছেও তাদের দুর্দশার শেষ হয়নি। জীবনে শুরু হয় নতুন সংগ্রাম— খাদ্য, বাসস্থান ও কর্মসংস্থানের। কলকাতা, আসাম, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গের নানা প্রান্তে তারা গড়ে তোলে নতুন বসতি, নতুন জীবন, কিন্তু মনের গভীরে রয়ে যায় হারানো শিকড়ের যন্ত্রণা। তাদের সন্তানেরা বড় হয় এমন এক স্মৃতির মধ্যে, যেখানে একদিকে রয়েছে হারানো জন্মভূমির আকুলতা, অন্যদিকে নতুন পরিচয়ের সন্ধান।

১৯৪৭ সালের দেশভাগ কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনার নাম নয়, এটি এক গভীর মানবিক ট্র্যাজেডি। লক্ষ লক্ষ বাঙালির চোখের জল, ভাঙা ঘরবাড়ি, ছিন্নমূল জীবনের কাহিনি আজও ইতিহাসের পাতায় এক অবিনাশী ক্ষত হয়ে রয়েছে।

সেই ক্ষত চিহ্নের এক জীবন্ত বিবরণ পাওয়া গেছে দক্ষিণারঞ্জন বসু রচিত ‘ছেড়ে আসা গ্রাম’ নামে এক ধ্রুপদি গ্রন্থের পাতায় পাতায়। এই রচনার শুরুতে চট্টগ্রাম জেলার ধলঘাট গ্রামের সজীব বিবরণটুকু আমরা দিয়েছি সেটি এই বইতেই পেয়েছি। বইটিতে ১৯৪৭ থেকে ১৯৫০ এর বাঙালির চরম দুঃসময়ের কালকে মানুষের স্মৃতিকথা হিসেবে ধরে রাখা হয়েছে। সে সময়ের ছিন্নমূল পূর্ববঙ্গীয় উদ্বাস্তু নারী-পুরুষের কাছ থেকে ছেড়ে আসা গ্রামের মর্মন্তুদ আলেখ্য গুলো সংগ্রহ করে ধারাবাহিকভাবে পত্রিকায় প্রকাশ করছিলেন লেখক দক্ষিণারঞ্জন বসু। এই সব কাহিনির মধ্য দিয়ে অভিশপ্ত খণ্ডিত বাংলার পূর্ব প্রান্তের সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, আশা-হতাশা জড়িত ইতিহাসকে ভাষায় রূপায়িত করা হয়েছিল।

‘ছেড়ে আসা গ্রাম’ এর প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দের ৮ মে। এর পাঁচ বছর পর প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় খণ্ড। দুটো খণ্ড একসঙ্গে প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। এটির  লেখক দক্ষিণারঞ্জন বসুর জন্ম ঢাকা জেলার বজ্রযোগিনী গ্রামে। তিনি মাত্র সতের বছর বয়সে ‘বন্দেমাতরম’ পত্রিকায় সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরবর্তীকালে যুগান্তর পত্রিকায় কাজ শুরু করেন। সেই পত্রিকায় বার্তা সম্পাদক হিসেবে কাজ করার সময় ১৯৭৬ সালে অবসর নেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ বছরের বেশি সময় সাংবাদিকতা বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। পূর্ব বাংলার নিজস্ব ভূমি থেকে ছিন্ন হয়ে আসা মানুষের সঙ্গে কথা বলে, তাদের মুখ থেকে অতীতের স্মৃতির কথা শুনে দক্ষিণারঞ্জন বসু নিজে তাদের মতো করে লিখেছেন। তবে তাদের নাম উল্লেখ করেননি। লেখাগুলো ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে রচিত নয়। সাধারণ গ্রামীণ মানুষের স্বপ্ন, স্বপ্নভঙ্গ,  সুখ-দুঃখের স্মৃতিগুলো বিবৃত হয়েছে আবেগপ্রবণ ভাষায়। মানুষই এখানে মূলকেন্দ্র, বাস্তুত্যাগী মানুষের বিহ্বল চেতনাকে কেন্দ্র করে রচিত প্রতিটি বর্ণনায় এক একেকটি গ্রাম জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

বইটিতে ঢাকা জেলার বজ্রযোগিনী, সাভার, ধামরাই, খেরুপাড়া, ধামগড়, আনরাবাদ, শুভাঢ্যা, নটাখোলা, সোনারং গ্রামের বিবরণ পাই। ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা, বিন্যাফৈর, কমলপুর, খালিয়াজুরি, বারোঘর, কালিহাতী, সাঁকরাইল, নাগেরগাতী, সাখুয়া গ্রামের মানুষের স্মৃতিচারণ রয়েছে।  বরিশালের বানারীপাড়া, গাভা, কাঁচাবালিয়া, মাহিলপাড়া, চাঁদসী, সৈওর, নলচিড়া, এই ৭টি গ্রামের কথা উঠে এসেছে। ফরিদপুরের যে ৭টি গ্রামের কথা আমরা পাই সেগুলো হলো কোটালিপাড়া, রামভদ্রপুর, কাইচাল, খালিয়া, চৌদ্দরশি, খাসকান্দি ও কুলপদ্দিগ্রাম।  চট্টগ্রামের চারটি বিখ্যাত গ্রাম সারোয়াতলী, ধলঘাট, ভাটিকাইন ও গোমদণ্ডীর ঐতিহ্যের কথাও উঠে এসেছে বইটিতে। নোয়াখালীর দরাপনগর, সন্দ্বীপ (বর্তমানে চট্টগ্রামের) স্মৃতিকথাও পাই। এ ছাড়া ত্রিপুরা, শ্রীহট্ট, যশোহর, খুলনা, রাজশাহী, পাবনা, কুষ্টিয়া. মালদহ, রংপুর, বগুড়া, দিনাজপুর ও জলপাইগুড়ির বেশ কয়েকটি গ্রাম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া মানুষের বেদনার কথা পাই বইটিতে। ভাগ্য বিড়ম্বিত এই মানুষগুলোর দুঃখের বয়ান আমাদের অশ্রুসিক্ত করে।

চট্টগ্রামের ভাটিকাইনের একজনের বয়ান শুনুন —‘বহু দিনের কথা। শঙ্খ ও হালদা নদীকে তবুও ভুলিনি। কর্ণফুলীর পাশে পাশে সেগুলো আজও বয়ে চলেছে। সেই হাটহাজারি, ফটিকছড়ি, রাঙামাটির দেশ, শান্ত সমাহিত পাহাড় ক্রোড়ে নাক চ্যাপটা মগ ও চাকমা শিশুর দল। সেই চন্দ্রনাথ পাহাড়, পাতাল কালীর সহস্রধারা। সেই ভাটিকাইন যাত্রাদলের গান, চকমকে পোশাক পরে গ্রামের বড়ো অভিনেতা চন্দ্রকুমার আসরে উঠেছে। সবই মনে আছে। কিছুই ভুলিনি। তবে এই কলকাতায় আমি আজ বাস্তুহারা! রিলিফ ক্যাম্পে বাস করি। ক্যাম্পে কয়েকজনের কলেরা হয়েছে। সকালে একটি বাস্তুহারা শিশু বসন্তে মারা গেছে। সেই সময়ই একমুঠো মোটা চিঁড়ে পেয়েছি। রিলিফবাবুর কাছে যেতে সাহস হয় না। কিছু বলতে গেলেই তিনি খেপে ওঠেন। কেন এমন হলো, সে প্রশ্ন আমি করি না। মাটির তলা থেকে মৃতের দুর্গন্ধ ওপরে ভেসে আসে কিনা জানি না, জানলে হয়তো বেশি করে মাটি চাপা দিয়ে আসতাম।’

নিজের দেশ, নিজের বাড়ি, নিজের ঘর থেকে এক ধরনের বিতাড়িত হয়ে দুর্দশায় পতিত হওয়া মানবেতর জীবনের মধ্যে নিক্ষিপ্ত হওয়া মানুষগুলোর এমন বিবরণ বইটির প্রতিটি স্মৃতিকথায়। বগুড়ার ভবানীপুরের একজনের বয়ানে সেই আক্ষেপ, সেই বিলাপ — ‘আমার গ্রাম ভবানীপুর পীঠস্থান। সেখানকার মাটি সেখানকার ইতিহাস সব আছে, কিন্তু নেই শুধু আমার বাসের অধিকার। আমার শান্তির নীড় আজ নষ্ট। খুব বেশি দিনের কথা নয়, কয়েক বছর আগেও ভাবতে পারিনি যে এমন সোনার গাঁ ছেড়ে আমাকে হীনতা আর দীনতার মধ্যে জীবনের শেষ দিনগুলো কাটাতে হবে। আমার জন্মভূমি থাকতেও আমি পরবাসী লক্ষ্মীছাড়া হয়ে ক্লান্ত পায়ে ফুটপাথে বিশ্রাম করব, বৃক্ষতলে রাত কাটাব, শিশুপুত্রের হাত ধরে ঘুরে বেড়া অস্নাত অভুক্ত অবস্থায়। এই অশ্রুর বন্যায় মনে পড়ছে একটি কবিতার কথা,

ত্রিযুগের ব্যথা তিন ভাগ জলে পূর্ণ করিল ধরা,

বাকি একভাগ ধর্মের নাম আজ অশ্রুতে ভরা। ’

মানুষের এই সব হাহাকারের পাশাপাশি বইটিতে যে ৬৪টি গ্রামের স্মৃতিকথা বর্ণিত  হয়েছে তার মাধ্যমে তখনকার পূর্ববাংলার জনজীবন ও প্রকৃতির অনুপুঙ্খ প্রামাণ্য চলচ্চিত্রই ধারণ করা হয়েছে।

মাতৃভূমি ছিন্ন মানুষের দুঃসহ যন্ত্রণার কথা তুলে ধরার কারণে বইটি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। পরে ১৯৭১ সালে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের আবির্ভাবের পর বইটির ওপর আর নিষেধাজ্ঞা থাকে না। বইটির অখণ্ড সংস্করণ প্রকাশ করে কলকাতার পারুল প্রকাশনী ২০১৫ সালে। ৪০ বছর  পর বইটির পুনপ্রকাশ এর চিরকালীন প্রাসঙ্গিকতার কথাই মনে করিয়ে দেয়। কারণ এটি পাক ভারত উপমহাদেশের একটি জটিল সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দলিলের মতো। ১৯৪৭ সাল থেকে পরবর্তী দেশভাগ ও জনবিচ্ছিন্নতার সময়ে পূর্ববঙ্গের ১৮টি জেলার ৬৪টি গ্রাম থেকে উচ্ছেদ হওয়া মানুষের মনোবেদনাকে লেখক জাগিয়ে রেখেছেন এই বইতে। এটি শুধু ইতিহাস নয়, বরং তিনি যেন মানুষের ছেড়ে আসা গ্রামের পথে পথে হেঁটে তৈরি করেছেন ৬৪টি মানবিক প্রতিবেদন। যেখানে খোদিত রয়েছে জনজীবনের ভাঙনের কথা, স্মৃতিচিহ্ন। বাঙালির রক্তের ভেতরে বহমান সংস্কৃতিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরবে এই বই। বইটির তাৎপর্য এখানে।

বইয়ের নাম: ছেড়ে আসা গ্রাম
লেখক: দক্ষিণারঞ্জন বসু
প্রথম খণ্ড প্রকাশ: ১৯৫৩ সাল ।
প্রথম অখণ্ড প্রকাশ: ১৯৭৫ সাল
নতুন ভাবে প্রকাশ ২০১৫ সাল
পারুল প্রকাশনী। কলকাতা। ভারত।

 

মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। আবশ্যক ঘরগুলো * দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে