বয়সকে আদৌ আমল না-দিয়ে এতগুলো বছর দিব্যি কাটল। কিছুদিন হল, সব ব্যাপারে নিজের নানান অধঃপতন চোখের সামনে দেখতে দেখতে এবার কিন্তু তার জারিজুরি ভালোমতোই টের পাওয়া যাচ্ছে। সেই অবক্ষয়ের সবচেয়ে বড় উপসর্গ হল, মগজের আলস্য। অলস মগজ চিন্তা করতে গিয়ে পদে পদেই থমকে যায়। কথা দিয়ে যেমন আমরা চিন্তা সাজাই, চিন্তা আবার কথার সিঁড়ির সামনে আমাদের এনে দাঁড় করায়। একটা একটা ক’রে তার ধাপ বেয়ে আমরা কোনও সহৃদয়ের কাছে নেমে আসি। বা, উঠতে থাকি কল্পনার চিলেকোঠায়। চিন্তা আউলে গেলে কথাও হারিয়ে যায়। হারিয়ে যায় তার সাবলীল অনর্গলতা। এর ওপর একটা উপরি বিপদ আছে। আমার স্মৃতি বেজায় নাজুক। আর এখন তো সবকিছু ভুলে মেরে দেওয়াটাই দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজেই কথারও অকুলান আর স্মৃতিরও ভঙ্গিলতা বিধায়, স্মৃতিকথা লেখার দায় থেকে মুক্ত হয়ে বসে আছি।
সফল মানুষদের জীবনে বুদ্ধিবৃত্তিক ধারভার ছাড়াও কিছু সহজাত গৃহিণীপনা থাকে। আপাদমাথা এক ধরনের স্বেচ্ছাবৃত শৃঙ্খলার হুকুমদারিতে তাঁদের কাজের টেবিল থেকে ভাঁড়ার ঘর সব জায়গাতেই সেই সংগঠিত শ্রীয়ের জাদুস্পর্শ লেগে থাকে। বাইরের দিক থেকে তাকে যতই জাদু মনে হোক, ফুলফলের সেই রঙদার ঘ্রাণ আর স্বাদের আড়ালে নিঃশব্দে কাজ ক’রে যায় শ্রমের শিকড়। সেই শ্রমিক শ্রীজ্ঞানের বদৌলতেই জীবন যত পুরনোই হোক, অতীতের অন্তত জরুরি স্মারকগুলি তাঁরা হারান না। যেমন চিঠিপত্র।
আজ হয়তো কাগজে কলমে লেখা চিঠির জায়গা নিয়েছে ত্বরিতে পৌঁছে যাওয়া বৈডাক বা ইমেইল। কিন্তু পনের-বিশ বছর আগেও সাক্ষর মানুষের জীবনের অপরিহার্য অবলম্বন ছিল এই চিঠি। আমাদের প্রজন্মের মানুষজনের বারো আনা সময় তো চিঠিতে চিঠিতেই গাঁথা। সেইসব চিঠিই যেন, এক একটি ব্যক্তিমানুষের ইতিহাসের আকর। এসব কথা সজ্ঞানে ভেবে বা না-ভেবেও, সেইসব সৌকর্যপ্রিয় মানুষ যাঁদের কথা বলছিলাম, জীবনের অন্যান্য স্মারকের মতোই গুরুত্বপূর্ণ চিঠিপত্রও গুছিয়ে রাখেন। অতটা সংরক্ষণশীল যদি না-ও হন, অন্তত তাঁদের বাক্স সিন্দুক হাঁটকালে সহজেই কিছু না-কিছু ডাকছাপ-মারা কাগজ পত্তরের হদিশ পাওয়া যায়। এব্যাপারেও আমি চূড়ান্ত হতশ্রী আর নালায়েক। সময়ের স্বাভাবিক ছন্দেই যদিবা কিছুটা সঞ্চয় জমেছিল, আস্তানা বদলের চক্করে সবই গায়েব। নিজেকে শত ধিক্কার দিলেও, সেসব আর কিছু ফিরে পাব না। কাজেই, চিঠির পইঠা বেয়ে যে সময়ের পিছন পানে খানিক উঁকিঝুঁকি মারব, সে-সুযোগও বিশ্রীভাবে নষ্ট!
তবে, সঞ্চয়ের দেবীর চোখে ধুলো দিয়ে যেমন গোছানো মানুষের হেফাজত থেকেও দু-চার পিস দিনার মোহর এদিক সেদিক গলে যায়, ধ্বংসের দেবতাকে ফাঁকি দিয়েও তেমনই অগোছ মানুষের দেরাজ-আলমারির অন্ধকার কোনাকানচিতেও খুদকুঁড়ো কিছু না-কিছু রয়ে যায়। আমার অমনোযোগ এড়িয়ে সামান্য কিছু চিঠিপত্র আজও তাই রয়ে গেছে। আছে দু-একটা পুরনো কাগজপত্তরও। সেগুলো খুবই এলোমেলো, অনির্বাচিত আর ধারাবাহিকতাহীন। তবু সেসব দিয়েই নাহয় শুরু করা যাক পিছনের দিকে ইতস্তত ফিরে তাকানোর একটা খেলা। খেলাটা কতদূর জমবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা নাহয় আপাতত বাদই দিলাম।
২.
আমার কাছে রয়ে যাওয়া প্রাচীনতম চিঠিটির কাহিনি দিয়েই শুরু যাক। এই চিঠির রচয়িতা শ্রীমতী সরযূ দেবী। প্রাপক বাবু প্রমথনাথ চৌধুরী। এঁদের দুজনার কাউকেই আমি দেখিনি। দেখার কথাও নয়। কাজেই তাঁদের নিয়ে কোনও স্মৃতিই আমার নেই। দ্বিতীয় জনের বিষয়ে আমার বাবা বা অন্য পরিজনদের কাছ থেকে তবু কিছু কথা শুনেছি। কিন্তু প্রথম জনের ব্যাপারে আমার বাবারও কোনও স্মৃতি ছিল না। মাত্র আড়াই বছর বয়সে আমার বাবা মাতৃহীন হন। হ্যাঁ, এই চিঠির লেখক সরযূ দেবীই আমার সেই পিতামহী। যাঁর স্মৃতি বলতে ১০৫ বছর আগে লেখা এই একটি পোস্টকার্ড। যা উত্তরাধিকার সূত্রে আমার কাছে রয়ে গেছে, এবং আমারই অবহেলায় কিছুটা ধ্বংসপ্রাপ্তও হয়েছে। তবে লিখনবস্তু এখনও প্রায় স্পষ্ট পড়া যাচ্ছে। প্রাপকের ঠিকানা এবং ডাকবিভাগের সিলমোহরগুলিও তাদের তারিখ সমেত জীবন্ত। চিঠির প্রাপক, আমার পিতামহ, আমার জন্মের চার বছর আগেই যিনি গতাসু হন।
প্রমথনাথ থাকতেন সিরাজগঞ্জে। কাজ করতেন আইনজীবী (প্লিডার) বাবু অক্ষয়চন্দ্র লাহিড়ীর সেরেস্তায়। তবে তাঁর মন পড়ে থাকত সংগীত চর্চায়। তাঁর ব্যবহার করা এসরাজটি এখনও আমার সংগীতজ্ঞ ছোটবোনের কাছে সযত্নে রাখা আছে। গান ছাড়াও তাঁর আর এক আগ্রহের অবলম্বন ছিল নাট্যচর্চা। তাঁদের যৌথ পরিবারে একটি নিজেদের নাটকের দল ছিল। প্রমথনাথের প্রায় সমবয়সী এক কাকা ছিলেন সেই দলের কর্ণধার এবং নাটক রচয়িতা। অথচ পেশায় তিনি ছিলেন থানার দারোগা।
আমার বাবার মাতুলালয় ছিল মুরশিদাবাদ জেলার বহরমপুর সংলগ্ন খাগড়ায়। খাগড়ার তসর আর কাঁসার বাসন একদা খুব বিখ্যাত ছিল। আমার পেশ করা চিঠিটি থেকে দেখা যাচ্ছে, সরযূ তখন খাগড়ায়, তাঁর বাপের বাড়ি। খাগড়া থেকে চিঠি যাচ্ছে সিরাজগঞ্জে। চিঠির ওপর খাগড়া ডাকঘরের সিলমোহর পড়েছে ২৪ ফেব্রুয়ারি (১৯)২০ তারিখের। ব্রিটিশ আমলে ডাকচলাচল বেশ দ্রুতই ছিল বলতে হয়। কারণ চিঠি সিরাজগঞ্জ পৌঁছে গেছে মাত্র দুই দিনে। সেখানকার ডাকছাপ ২৬ ফেব্রুয়ারি (১৯)২০ তারিখের।
চিঠিটিতে লেখা বাক্যগুলির মাঝে কোনও যতিচিহ্ন নেই। পড়লে মনে হয় খাগড়ায় তখন ম্যলেরিয়ার খুব প্রকোপ চলছে। কারণ চিঠিতে উল্লেখ করা সবকটি পাত্রপাত্রীই, লেখিকা সমেত, জ্বরে ভুগছেন। চিঠির বয়ান এবার উদ্ধার করা যাক –
শ্রী শ্রী কালীমাতা সহায়
খাগড়া
শ্রীচরণ কমলেষু
কার্ড পাইয়া সমস্ত অবগত হইলাম। খোকা ভালো আছে তবে শরীর অমিনি রোগা। বড় দিদি শশি দিদি বাড়ী গিয়াছেন। বড় দিদি খুব জ্বর অমনে দুই দিন হইল পথ্য করিয়াছেন। দাদার শনিবার দিন হইতে খুব জ্বর হইয়াছে। জ্বর ছাড়েনি। আমার আবার রবিবার দিন হইতে হুহু জ্বর হইতেছে। একদিন ছোট এক দিন বেশি জ্বর হইতেছে। বেশি লিখিতে পারিতেছি না। ডাক্তারের বৌ কেমন আছে? আপনি কেমন আছেন? প্রণাম জানিবেন।
ইতি
সরযূ
ঠিকানা :
Baboo
Promotha nath Choudhury.
C/o Babu Akshoy Chandra Lahiri Pleader.
Serajgunje
চিঠিতে যে-খোকার উল্লেখ রয়েছে, বোঝাই যাচ্ছে, তিনিই আমার বাবা। চিঠির তারিখ অনুযায়ী ওই সময় তাঁর বয়স দুই বছরের মতো। এই চিঠির পর হয়তো আর মাস ছয়েকের মধ্যেই সরযূর জীবনান্ত হয়। হয়তো এটিই তাঁর লেখা শেষ চিঠি। হয়তো ওই হুহু জ্বর অর্থাৎ ম্যালেরিয়াই তাঁর মৃত্যুর কারণ। কে জানে!


৩.
সরযূর বিষয়ে আর কিছুই আমার জানা নেই। তাঁর বাবা নিজের শহর খাগড়াতেই অন্য দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন। ওপরের চিঠির সময় থেকে প্রায় ৪২ বছর পরে, তাঁর সেই দিদিদের সাথে দেখা হয়েছিল। তখন আমার বয়স বছর দশেক। তাঁরা বড়দিদি তখন অন্ধ এবং অশক্ত। কিন্তু তাঁর শশিদিদির ভেতর কোনওদিন না-দেখতে পাওয়া স্নেহময় ঠাকুমাকেই যেন খুঁজে পাওয়া গেল। খাগড়ার আচায্যিপাড়ার গলিতে তাঁদের বাসাটাও নির্ঘাত সেখানকার অন্যসব ইমারতের মতোই নবাবি আমলেরই তৈরি। ভেতরে বেশ একটা প্রাচীন গন্ধ। শুনেছি, ভূতপ্রেতও নাকি বেরত একসময়। অনেক তন্ত্রমন্ত্র ক’রে তাদের ভাগাতে হয়েছে। গলির এক মুখে জগদম্বার মন্দির, আর এক মুখে ঠাকুমাদের বাড়ির পাশেই বেশ পুরনো দিনের এক মসজিদ। সেখানে মুসল্লিরা নিয়মিত নামাজ পড়তে আসেন। সন্ধেবেলার আজানের সাথে জগদম্বা মন্দির থেকে ভেসে আসা ঘণ্টাধ্বনি মিলেমিশে যেত। কবেকার মরেহেজে যাওয়া সরযূর পৌত্র হবার সুবাদে বেশ কয়েকবার গেছি সে-বাড়িতে। কদমছাঁট চুল, বলিরেখা ভরা মুখ, চোখে ভারি কাচের চশমা, পরনে সাদা থান কাপড়। বয়স্ক চরিত্রে অভিনয়ের সময় কাঁচা অভিনেতারা যেমন গলা কাঁপায়, ঠিক সেইরকম কম্পমান কণ্ঠস্বর। এই হলেন আমার ঠাকুমা, আমার পিতামহী সরযূর শশিদিদি। পুরনো দিনের ভাষায় বলা তাঁর একটি স্নেহময় মাথার দিব্যি ছিল এরকম – ওটুকু খেতেই হবে, না খাবি তো আমার মরামুখ দ্যাখ।
খাগড়ার গল্প থেকে ৪০ বছর পিছিয়ে আবার একটু সিরাজগঞ্জে ফিরে যাই। ফিরে যাই প্রমথনাথের কথায়। আমার সঞ্চয়ে তাঁর কোনও চিঠিপত্র না-রইলেও, তাঁরই স্বহস্তে লেখা একটি হিসাবের খাতা খুঁজে পেলাম। খাতাটির লিখন বাংলা ১৩২০ সালের ১ বৈশাখ শুরু (১৪ এপ্রিল ১৯১৩)। কিন্তু হলে হবে কী, সেবছরের ১১ অগ্রহায়ণে (২৭ নভেম্বর) পৌঁছে তা সহসা থেমে গেছে। তারপর দীর্ঘ আট বছরের ফাঁক। মনে হয়, এই সময়ের মধ্যেই সরযূর সাথে তাঁর বিয়ে, পুত্রের জন্ম এবং সরযূর অকালপ্রয়াণ – সবই ঘটে গেছে। আট বছর বাদে খাতাটিতে আবার নথিবদ্ধ হয়েছে কিছু উপাত্ত। সেও শুধু ১৩২৮ সালের ১ শ্রাবণ থেকে সেই বছরের ২ ভাদ্র অর্থাৎ ইং ১৯২১ সালের ১৭ জুলাই থেকে ১৮ অগাস্ট পর্যন্ত। খুব অল্প সময়ের জন্য হলেও, এই অংশটি আমাদের বর্তমান কাজের জন্য খুব জরুরি। কারণ দেখা যাচ্ছে, ৩১ শ্রাবণ (= ১৬ অগাস্ট) একটি খরচ নথিবদ্ধ করা হয়েছে – গোপালকে পাঠানো হয় : ১০টাকা ২আনা। গোপাল, আমার বাবা প্রদ্যোত চৌধুরীর একটি ডাকনাম। তাঁকে টাকা পাঠানো হয়েছে মানে, তিনি নিশ্চয়ই তখন অন্য কোথাও ছিলেন। কিন্তু, তিনি তো তখন তিন বছরের শিশু মাত্র। তিনি তো আর টাকা নিতে পারেন না। তার মানে, তাঁর কোনও অভিভাবককেই এই টাকাটা পাঠানো হয়েছে। সমকালীন বাজার দরের অনুপাতে ১০টাকা ২আনার মূল্য তখন কিছু কম নয়। খাতাটির সাক্ষ্য অনুযায়ী, দৈনন্দিন দরকারের দুধ বা মাছ এক পয়সা থেকে এক আনা (= ০.০১৫৬২৫ টাকা থেকে ০.০৬২৫ টাকা) দামে বাজারে মিলত। এক জোড়া ধুতির দাম ছিল ৫টাকা ৬আনা (= ৫.৩৭৫ টাকা)। অর্থনীতির শুকনো পরিসংখ্যান থাক। বলার কথা এই যে, হয়তো স্থানান্তর থেকে ছোট্ট ছেলেটিকে নিজের কাছে নিয়ে আসার জন্যই প্রমথনাথ ওই ১০টাকা ২আনা পাঠিয়েছিলেন। হয়তো মায়ের মৃত্যুর পর শিশুটি তাঁর মাতামহের বাড়িতেই ছিলেন এতদিন।
টাকা যেখানে যেজন্যই পাঠানো হোক, প্রমথনাথ যে ছেলেকে নিজের কাছেই নিয়ে এলেন, তার সাবুতও রয়েছে ওই হিসাবের খাতাতেই। ভাদ্র মাসের দুই তারিখে (১৩২৮) যে-হিসাবলিখন হঠাৎই থেমে গিয়েছিল, মাঘের শীতে পৌঁছে তা লেখার কথা আবার মনে এল। তবে, এখন আর বাংলা সন-তারিখ নয়, একেবারে ইংরেজি ১৯২২ সালের ১ জানুয়ারি আবার শুরু হল লেখা। আর সেই নতুন বছরের প্রথম উপাত্তটিই হল – গোপালের জন্য চাউল : সাড়ে চার আনা (=০.২৮ টাকা)। এরপর প্রায় দিনই গোপালের নামে ১পয়সা (= ০.০১৫৬২৫ টাকা) ক’রে খরচ নথিবদ্ধ করা হয়েছে। হয়তো সেটি তাঁর নাস্তা বাবদ খরচ। এছাড়াও গোপালের মুড়কি বিস্কুট : ২পয়সা (= ০.০৩১২৫ টাকা) [৭| ১| ২২] আর খোকার চাউল : ৪আনা (= ০.২৫ টাকা) [২১| ১| ২২] এমন দুটি লিখনও আছে। জানুয়ারির ৩১ তারিখ পর্যন্ত লিখনে কোনও ছেদ নেই। তারপর থেকে খাতার পাতা সাদা। হিসাবের খাতার প্রসঙ্গ থেকে আমারও মুক্তি।


সরযূর মৃত্যুর পর প্রমথনাথ আর বিয়েথা করেন নি। ছোট্ট শিশু পুত্রটি প্রমথর কাকার পরিবারের অন্য ছেলেমেয়েদের সাথে সিরাজগঞ্জেই বড় হতে থাকেন। শৈশব থেকে বালকবেলা, বালকবেলা থেকে কৈশোর, সেই মাতৃস্নেহহীন মানুষটি পরভৃতের মতো বেড়ে ওঠেন। আর, ছুটিছাটায় বছর বছর চলতে থাকে পারিবারিক পালা। কাকার লেখা সেসব নাটকে প্রমথনাথ এসরাজ বাজিয়ে গান করেন। অনেক অনেক দিন পরে তাঁর সেই নাটককার ও দারোগা কাকা একদিন আফিমের চোরাচালান ধরতে গিয়ে বর্মি (মগ?) দস্যুদের হাতে নিহত হন। তখন তাঁর কর্মস্থল রঙপুর। ব্রিটিশ আমলের শেষের দিক তখন।
দেশভাগের পর ঠিক কবে যে প্রমথনাথ আমার বাবার কাছে উত্তর প্রদেশের কানপুরে চলে আসেন, তা আমার জানা নেই। গলার ক্যানসারে ভুগে ১৯৪৮ সালে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
