দুই ছাত্রীর স্মৃতিতে শিক্ষক জাক দেরিদা : ভূমিকা ও অনুবাদ: নির্ঝর নৈঃশব্দ্য

জাক দেরিদা

জ্যাক দেরিদা (Jacques Derrida, ১৯৩০–২০০৪) কেবল বিংশ শতাব্দীর অন্যতম দার্শনিক-চিন্তক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ প্রথাবিরোধী শিক্ষক। তাঁর শিক্ষকতার ধরন ছিল তাঁর অবিনির্মাণ তত্ত্বেরই এক জীবন্ত প্রতিফলন।

দেরিদার ক্লাসরুম কোনো প্রথাগত লেকচার থিয়েটার ছিল না, বরং তার ক্লাসরুম ছিল যেন এক জ্ঞানের গবেষণাগার। সেখানে তিনি কোনো তৈরি করা সত্য মুখস্থ করাতেন না, বরং একটি পাঠের ভেতর কেমন করে ঢুকতে হয় এবং তার অন্ধবিন্দুগুলি খুঁজে বের করতে হয়, তা হাতেকলমে শেখাতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, একজন শিক্ষকের প্রথম কাজ হল টেক্সটের প্রতি সৎ থাকা। তাঁর ক্লাসগুলিতে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিতেন একটি মাত্র শব্দ বা বাক্য বা অনুচ্ছেদ ব্যাখ্যা করতে করতে। প্রথাগত শিক্ষকরা সাধারণত ক্লাসে কর্তৃত্ব নিয়ে বসেন। কিন্তু দেরিদা তার ছাত্রছাত্রীদের ওপর ছেড়ে দিতেন। তার সেমিনারগুলি কখনো চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা স্থায়ী হত। তিনি যখন কথা বলতেন, মনে হতো তিনি নিজের সঙ্গে নিজেই তর্ক করছেন, চিন্তার বিবর্তন ঘটাচ্ছেন সবার সামনে। তিনি পড়াবার সময় মাঝেমধ্যে নিজেই থমকে যেতেন, নতুন কোনো অর্থের সন্ধানে। এই অনিশ্চয়তা ছিল তাঁর পড়ানোর মূল ভিত্তি।

দেরিদা তাঁর ছাত্র-ছাত্রীদের গবেষণার প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। তিনি মনে করতেন শিক্ষকতা কেবল তথ্যের আদান-প্রদান নয়, এটা আদরযত্নের মতোই ব্যাপার।

দেরিদার ক্লাসে নৈঃশব্দ্যের একটা বড়ো ভূমিকা ছিল। তিনি বলতেন, দুটি শব্দের মাঝখানের যে ফাঁকা জায়গা, সেখানেই দর্শনের জন্ম। তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের শেখাতেন কেমন করে শোনা একটি সক্রিয় দার্শনিক কাজ হতে পারে। তিনি শিক্ষক হিসেবে ছিলেন একজন ‘মাস্টার অফ ডাউট’। তিনি শেখাতেন যে, কোনো কিছুই ধ্রুব সত্য নয় এবং প্রতিটি সংজ্ঞার ভেতরেই তার বিপরীত অর্থ লুকিয়ে থাকে। তাঁর কাছে শিক্ষা ছিল একটি অন্তহীন যাত্রা, যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েই একটি পাঠের গোলকধাঁধায় সত্যের সন্ধান করেন। তিনি শেষের দিকে এক সাক্ষাৎকারে নিজেকে মূলত একজন সেকেলে শিক্ষক বলেছেন, যিনি কেবল চেয়েছিলেন তাঁর ছাত্ররা যেন মনোযোগ দিয়ে পড়তে শেখে।

                                  পেগি কামুফ

শিক্ষক হিসেবে জাক দেরিদা কেমন ছিলেন তা নিয়ে তাঁর বিখ্যাত ছাত্র-ছাত্রীদের অনেক স্মৃতিকথা রয়েছে, তাদের বইপত্রে। তাদের থেকে দুজন ছাত্রীর দুটো স্মৃতিকথা আমি অনুবাদ করবার চেষ্টা নিলাম খানিকটা। সেই দুজন হলেন ক্যাথরিন মেলাবু (Catherine Malabou) আর পেগি কামুফ (Peggy Kamuf)।

প্রথমে ক্যাথরিন মেলাবুর কথা বলি। তিনি ছিলেন দেরিদার সরাসরি পিএইচডি ছাত্রী। তিনি ১৯৫৯ সালের ২ জানুয়ারি আলজেরিয়ার সিদি বেল আব্বেস এ জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর শৈশব ও উচ্চশিক্ষা কাটে ফ্রান্সে। তিনি এখন পৃথিবীর অন্যতম দার্শনিক-চিন্তকদের একজন। শিক্ষকতা করেন ইউরোপ ও আমেরিকার তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁর কাজ মূলত তিন বিষয়ের ওপর দাঁড়িয়ে, যথা দর্শন, স্নায়ুবিদ্যা ও নারীবাদ। তিনি দেখিয়েছেন যে মানুষের মস্তিষ্ক ও চেতনা স্থির কিছু নয়, এটা পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজেকে নতুন আকার দিতে পারে। তিনি দেরিদার উত্তরসূরি হয়েও অবিনির্মাণকে তাঁর প্লাস্টিসিটি তত্ত্বের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন রূপ দেবার চেষ্টা করেছেন। গত কয়েক বছর ধরে তিনি জীববিদ্যার জৈবিক কাঠামোর সঙ্গে রাজনৈতিক স্বাধীনতার বা নৈরাজ্যবাদের সম্পর্ক নিয়ে কাজ করছেন। তিনি তাঁর নানা লেখাপত্র ও সাক্ষাৎকারে শিক্ষক দেরিদাকে নিয়ে সুন্দর স্মৃতিচারণ করেছেন। তাঁর মতে, দেরিদা কখনোই তাঁর নিজস্ব মতবাদ বা অবিনির্মাণের ধারণা ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দিতেন না। মেলাবু যখন ‘হেগেলের দর্শনে প্লাস্টিসিটি’ তত্ত্ব নিয়ে কাজ শুরু করেন, তখন দেরিদা তাঁকে সবথেকে বেশি উৎসাহ দিয়েছিলেন। মেলাবু ও দেরিদা যৌথভাবে ‘Counterpath’ (La Contre-voie) নামে একটা বইও লিখেছিলেন, যা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পর্কের এক অনন্য দলিল। মেলাবুর লেখাগুলি পড়লে বোঝা যায়, একজন শিক্ষক হিসেবে দেরিদা কতটা বিনয়ী ও মনোযোগী শ্রোতা ছিলেন। ২০০৪ সালে দেরিদার মৃত্যুর পর তিনি ‘বিদায়’ (L’adieu) নামে একটা স্মৃতিকথা লেখেন। সেটার অনুবাদ এইখানে রাখলাম:

‘জাক দেরিদার ক্লাস বা সেমিনারগুলি কেবল কোনো একাডেমিক আলোচনার জায়গা ছিল না, সেগুলি ছিল একেকটি ঘটনা। আমরা যারা তাঁর ছাত্র-ছাত্রী ছিলাম, আমাদের কাছে তাঁর ক্লাসে বসা মানে ছিল এক ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্নিপরীক্ষা। তিনি যখন ক্লাসে ঢুকতেন, তাঁর হাতে থাকত অগোছালো একতাড়া কাগজ, যেগুলি তিনি রাতভর জেগে লিখতেন। তিনি যখন পড়তে শুরু করতেন, মনে হত আমরা কেবল দর্শন শুনছি না, বরং দর্শন কেমন করে জন্ম নেয়, তা সরাসরি চোখে দেখছি।

শিক্ষক হিসেবে দেরিদার সবথেকে বড়ো গুণ ছিল তাঁর খাতিরদারি। তিনি কোনোদিন আমাদের ওপর তাঁর কোনো চিন্তা চাপিয়ে দেননি। অনেক বড়ো বড়ো দার্শনিক চান তাঁদের ছাত্র-ছাত্রীরা যেন তাঁদেরই নকল হয়ে ওঠে। কিন্তু দেরিদা ছিলেন তার উলটো। তিনি চাইতেন আমরা যেন তাঁর থেকে দূরে সরে যাই, তাঁকে অতিক্রম করি। তিনি বলতেন, ‘প্রকৃত উত্তরাধিকারী সেই, যে তার পূর্বসূরিকে অনুকরণ না করে বরং তাকে সামনা করে।’

আমার পিএইচডির বিষয় ছিল হেগেলের দর্শনে প্লাস্টিসিটি। প্রথম যখন আমি ধারণাটি নিয়ে তাঁর কাছে যাই, তিনি অবাক হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি আমাকে থামাননি। তিনি আমাকে শিখিয়েছিলেন কীভাবে কোনো রচনার ভেতরে ডুব দিয়ে তার সবথেকে দুর্বল ও শক্তিক্ষম জায়গাটি খুঁজে বের করতে হয়। তিনি যখন আমার থিসিসের ভুলত্রুটি কেটে ঠিক করে দিতেন, তাঁর প্রতিটি মন্তব্যে যেন আমার এক একটা নতুন দিগন্ত খুলে যেত। তিনি আমার শিক্ষক ছিলেন, কিন্তু তাঁর আচরণ ছিল একজন সহযাত্রীর মতো।

একবার একটা সেমিনারে তিনি খুব ক্লান্ত ছিলেন। তাঁর কণ্ঠস্বর ধীর হয়ে আসছিল। কিন্তু আলোচনার গভীরে যাবার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর চোখে সেই চিরচেনা দীপ্তি জ্বলে উঠল। তিনি বলতেন, ‘পড়ানোর কাজটা হল এক ধরনের উপহার।’ শিক্ষক তাঁর ছাত্রছাত্রীকে কেবল বিদ্যা দেন না, তিনি তাদের নিজের মধ্যে থাকা ‘অন্যের’ মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেন।

২০০৪ সালের সেই শেষ দিনগুলিতে, যখন তিনি ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছেন, তখনো তাঁর চিন্তার স্বচ্ছতা কমেনি। তাঁর মৃত্যুর পর আমি যখন আমার ডেস্কে বসলাম, মনে হল আমার মাথার ওপর থেকে এক বিশাল ছায়া সরে গেছে। সেই ছায়াটি আমাকে রক্ষা করত, আবার হয়তো কোথাও আটকে রাখত। আজ আমি যখন লিখি, তখন বুঝতে পারি তিনি আমাকে কী দিয়ে গেছেন। তিনি আমাকে তাঁর চিন্তার দাস বানাননি, বরং আমাকে আমার নিজের পথ খুঁজে নিতে শিখিয়েছেন। একজন শিক্ষকের কাছ থেকে পাওয়া এর থেকে বড়ো প্রাপ্তি আর কী হতে পারে? তিনি চলে গেছেন, কিন্তু তাঁর কণ্ঠস্বর আজও আমার প্রতিটি ভাবনার গভীরে প্রতিধ্বনিত হয়।’

                           ক্যাথরিন ম্যালাবু

ক্যাথরিন মেলাবুর এই স্মৃতিকথা তাঁর ‘Changing Difference: The Feminine and the Question of Ontology’ (২০১১), মূল ‘Changer de différence: le féminin et la question de l’ontologie” (২০০৯) বইয়ে আছে।

ম্যালাবুর কথা ও স্মৃতিকথা শেষ। এইবার জাক দেরিদার আরেকজন ছাত্রী পেগি কামুফের কথা বলি। তিনি একজন শিক্ষক, তাত্ত্বিক, অনুবাদক ও সাহিত্য সমালোচক। তিনি কেবল দেরিদার ছাত্রীই ছিলেন না, ছিলেন ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও তাঁর প্রধান ইংরেজি অনুবাদক। ম্যালাবুর মতো কামুফও দেরিদার অবিনির্মাণ তত্ত্ব নিয়ে কাজ করেছেন। তার জন্ম ১৯৪৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে। দেরিদার মৃত্যুর পর তাঁর পাণ্ডুলিপি রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।  তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্রগুলি হল সাহিত্য তত্ত্ব, বিশেষ করে অষ্টাদশ শতাব্দীর ফরাসি সাহিত্য যেমন রুশো, স্তাঁদাল। উত্তর-কাঠামোবাদী নারীবাদের বিকাশে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি কেমন করে জ্ঞান উৎপাদন করে এবং সেখানে ক্ষমতার বিন্যাস কেমন, তা নিয়ে তিনি কাজ করেছেন। তিনি তরুণ বয়সে দেরিদার কাজের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হন এবং পরবর্তীতে তাঁর প্রধান ইংরেজি অনুবাদক ও সহকর্মী হয়ে ওঠেন। দেরিদার মৃত্যুর পর লেখা ‘To Follow: The Wake of Jacques Derrida’ বইটিতে কামুফ দেরিদাকে নিয়ে অত্যন্ত কাব্যিক ও সংবেদনশীল স্মৃতিচারণ করেছেন। তিনি স্মরণ করেছেন কীভাবে প্রথম তিনি দেরিদার লেখার সঙ্গে পরিচিত হন এবং পরবর্তীতে সামনাসামনি তাঁর সেমিনারগুলিতে অংশ নেন। একজন শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক হিসেবে দেরিদার প্রতি এক ছাত্রীর মুগ্ধতা, বৌদ্ধিক ঋণ এবং তাঁকে হারানোর শোক এই বইটিতে খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। সেই বইয়ের শুরুর দিকে একটা অংশের অনুবাদ এইখানে রইল:

‘জাক দেরিদাকে অনুসরণ করা, এই কথাটির অর্থ কী? আমার কাছে এর উত্তর শুরু হয় সত্তর দশকের সেই ধূসর বিকেলগুলিতে, যখন আমি প্রথম তাঁর সেমিনারে গিয়ে বসেছিলাম। তিনি যখন ক্লাসে প্রবেশ করতেন, তখন সেখানে এক ধরণের অদ্ভুত নিস্তব্ধতা নেমে আসত। তা কোনো ভয়ের নিস্তব্ধতা ছিল না, ছিল এক গভীর প্রত্যাশার। তিনি তাঁর খাতা খুলতেন, চশমাটা ঠিক করতেন এবং তারপর সেই কণ্ঠস্বর… সেই কণ্ঠস্বরটি আমি আজও ভুলতে পারি না।

শিক্ষক হিসেবে দেরিদার সবথেকে বড়ো জাদুকরী ক্ষমতা ছিল তাঁর পাঠ করবার ভঙ্গি। তিনি যখন কিছু পড়তেন, তা হেগেল বা হাইডেগার, মনে হত তিনি সেই মৃত লেখকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন। তিনি প্রতিটি শব্দ যেন হাতের তালুতে নিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতেন। তাঁর সেমিনারগুলি ছিল অসীম ধৈর্যের এক তপোবন। তিনি কখনো তাড়াহুড়ো করতেন না। একটা মাত্র বাক্য বা শব্দের ওপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা চলত, আর আমরা বিস্ময়ে দেখতাম কেমন করে একটা অতি সাধারণ শব্দ অবিনির্মাণের ছোঁয়ায় হাজারো অর্থের দরজা খুলে দিচ্ছে।

দেরিদা আমাদের শিখিয়েছিলেন যে, পড়া মানে কেবল তথ্য সংগ্রহ নয়, পড়া মানে লেখকের প্রতি দায়। তিনি ক্লাসে প্রশ্ন করবার সুযোগ দিতেন এবং প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর প্রশ্নকে এমন গুরুত্ব দিয়ে শুনতেন যেন সেটাই পৃথিবীর সবথেকে দরকারি প্রশ্ন। তিনি আমাদের কখনো তাঁর ‘শিষ্য’ বানাতে চাননি। তাঁর ক্লাসে বসে আমি বুঝেছিলাম, তাঁকে অনুসরণ করবার অর্থ তাঁর অন্ধ অনুকরণ করা নয়, বরং তাঁর শেখানো পদ্ধতিতে নিজের চিন্তার স্বাধীনতাকে খুঁজে পাওয়া।

একবার ক্লাসের পর করিডর দিয়ে হাঁটার সময় তিনি আমাকে ডেকে দাঁড় করিয়েছিলেন। আমার একটা ছোট্ট লেখা নিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘পেগি, এই জায়গাটিতে তুমি যা বলতে চেয়েছ, তা কি আরও একটু গভীরে নিয়ে যাওয়া যায় না?’ সেই ছোট্ট একটা কথা আমাকে মাসের পর মাস ভাবিয়েছিল। শিক্ষক দেরিদা এভাবেই আমাদের মাথার ভেতর চিন্তার বীজ বুনে দিতেন।

তাঁর মৃত্যুর পর আজ যখন আমি তাঁর লেখা অনুবাদ করি, তখন প্রতিটি শব্দের পেছনে আমি সেই ধীরস্থির কণ্ঠস্বরটি শুনতে পাই। অনুবাদ করাও তো এক ধরনের অনুসরণ। আমি যখন তাঁর ফরাসি শব্দগুলিকে ইংরেজিতে রূপান্তর করি, তখন আমি তাঁর ক্লাসরুমের সেই মেজাজটি ধরবার চেষ্টা করি, যেখানে প্রতিটি শব্দ ছিল এক একটা গোলকধাঁধা এবং প্রতিটি নৈঃশব্দ্য ছিল এক একটা নতুন সত্যের জন্মক্ষণ। তাঁকে ছাড়া আমাদের জগৎ আজ অনেক বেশি নিঃশব্দ হয়ে পড়েছে, কিন্তু তাঁর সেই পড়ানোর ধরন আমাদের রক্তে মিশে আছে।’

মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। আবশ্যক ঘরগুলো * দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে