আমার পড়ানোর জগৎ একটি । আর একটি নাটক লেখা।আমি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র। যে মানুষ টির কথা আমার বলতে ইচ্ছে তিনি হলেন অজিত চৌধুরী। এই লোকের প্রভাবে আমি কবিতা নাটক লিখেছি আর শিখেছি আধুনিক সব কথা দেরিদা লাকা ফুকো এবং ডি কনস্ট্রাকশন। সমাজের পরিবর্তন মনের সঙ্গে জুড়ে আছে। এই বোধ দিলেন অজিতদা। এম এ ক্লাসে এলেন । মুখে দাড়ি। পরে স্যার এর ঘরে গিয়ে আড্ডা। বললেন, আমার মুখে অপটিমাম পরিমাণ মাংস ছিল আর তখন আমার দাড়ি ছিল না। পরের দিন দাড়ি হীন ছবি এনে দেখালেন। সেই ভাব হলো। ছাত্র ও মাস্টারের ভাব। এবার লোকটার বাড়ি তে আড্ডা। আজকের সুগত মার্জিত অর্থনীতিবিদ চন্দ্রবিন্দুর চন্দ্রিল স্যার এর আড্ডায়। আমার কবিতার বই বেরোলো সহজ পাঠ।সেখানে দুটি কবিতা “লেবার থিওরী অফ লাভ” আর “দাসের সাম্রাজ্যবাদ” যেন মার্কসবাদী অজিত এর কথা থেকে লেখা। জয় গোস্বামীর সঙ্গে তুলনায় অজিত আমাকে আমার ঐ সব অমার্জিত ফচকে পদ্য কে বেশি নম্বর দিলেন। তখন এক দারুন মেয়ের সঙ্গে আমি প্রেম করি। সে মেয়েও অজিতদার ছাত্রী। খুব বড়লোক। ওর শরীরে অনেক প্রোটিন। তাই একদিন প্রেম ভেঙে গেলো।মেয়ে আর তার মা আমাকে মন্দ বলল। অজিতদা বললেন- বলবে, যা পেরেছ করেছো। যা পারনি করো নি। আজও জানি না অজিত কি বলতে চেয়েছিলেন।
ক্রমে স্যার এর মাথা গোলমাল। এক সহকর্মিণীকে একটা যৌনতা বিষয়ে প্রশ্ন করে দণ্ড পেলেন। তার অনেক আগে থেকেই উনি সব কিছু যৌনতার আলো দিয়ে বুঝতে চাইছিলেন। সে সব আমাদের অনেকের বোঝার বাইরে। স্যার আছেন। যোগাযোগ না রাখতে চান। কখনও একটা ফোন করলে একটা অদ্ভুত কোনো তুচ্ছ প্রশ্ন করেন। যেমন তুই ইনকাম ট্যাক্স এক কাউকে চিনিস? আচ্ছা আমার পেনশন এর ব্যাপারে কিছু করতে পারবি? নাট্যকার ব্রাত্য এই লোককে জানেন। বলেন, এর সঙ্গে কথা বললে পুণ্য হয় ।
মোহিত চট্টোপাধ্যায় আমার নাটক লেখার গুরু। মোহিত নিজে অসামান্য লেখক। আমার প্রথম। বিখ্যাত নাটক ‘আকরিক’ করেছিলেন বিখ্যাত নির্দেশক অসিত মুখোপাধ্যায়। তিনি আমাকে দিয়ে নাটক টি ছয় ছয় বার এডিট করিয়েছেন। আমি প্রতিবার অসিতের বিবেচনা ও নাটক এর বোধ এর প্রতি শ্রদ্ধায় নত। শেষে অসিত বললেন- এই ছয়বার যা যা বলেছি উজ্জ্বল, সব আসলে বলেছেন মোহিত চট্টোপাধ্যায়। আমি ছয়বার ওনাকে শুনিয়েছি। আবার ওনার মত তোমাকে বলেছি। এবার তুমি মোহিতের কাছে যাও। সাল হবে ১৯৯০..
মোহিতের টেলিফোন অব্দি ছিল না। কলকাতা থেকে দূরে বারুইপুরে থাকতেন। গেলাম লোকাল ট্রেনে করে। একটি ঝোপঝাড় ঘেরা দোতলাবাড়ির দোতলায় উঠে গিয়ে দেখলাম- একদম আনইমপ্রেসিভ চেহারার এক মানুষ অনেক লোকের মাঝে। আমি পরিচয় দিতে বললাম যে আমি ওই আকরিক …
উঠে এসে আলিঙ্গন করে বললেন- আরে, আই লাভ ইউ। সেই শুরু। গুরুর সঙ্গে দেখা। ওনার কাছে বসে লেখা শোনানো আর একটা কথা থেকে হাজার। সারা পৃথিবীর নাটক। নাটক কারিগরী আর শিল্প। সে যেন একটা মুক্ত ইস্কুল। একদিন বললেন দুপুরে খেয়ে যেতে। বললেন, একটু থাকো তোমার সঙ্গে দুটি ভাত খাবো। আমার সঙ্গে খাও বলেন নি। কোনো দিন ভুলবো না। আমার সব নাটকের মাঝে আছেন আজো মোহিত। আমার গুরু।
