আমার শিক্ষকগণ : শাহনাজ মুন্নী

সেই প্রাইমারি স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে কত কত শিক্ষকের ক্লাসই না করেছি, কতজনের সাহচর্য লাভ করেছি, কতজনের উজাড় করা জ্ঞানে নিজের শূন্য পাত্র ভরেছি, তাদের সবাইকে কি আর মনে আছে, না মনে থাকে! স্মৃতি হাতড়ে বেড়াচ্ছি, কিছু স্নেহার্দ্র কোমল মুখ, কিছু বজ্র কঠিন চেহারা, কয়েকটা মায়াভরা অবয়ব, মমতা মাখা কিছু কন্ঠ সিনেমার পর্দার মতো মনের মধ্যে ভেসে যাচ্ছে, একবার স্পষ্ট হচ্ছে আবার ঝাপসা হচ্ছে।

হেদায়েত স্যারের চেহারা অস্পষ্ট মনে পড়ে কি পড়ে না কিন্তু তাঁর সেই আদর ভরা ডাক ‘মাইয়ু’ পড়া শিখছো?’ এখনো কানে বাজে। ছোটখাটো নরম সরম আফতাব স্যার, আমার শুকনা দুবলা মুখের দিকে তাকিয়ে কোমল কন্ঠে জানতে চাইতেন, ‘সকালে নাস্তা কইরা আসো নাই? মুখটা মলিন লাগে কেন?’ আর ছিলেন মোটা ফ্রেমের চশমা পরা, পরিপাটি করে সুতি শাড়ি পরা, মিষ্টি কন্ঠের আপারা। ডলি আপা, শিরিন আপা, হোসনে আরা আপা।

চতুর্থ শ্রেণীতে প্রচন্ড ভয় পেতাম অংকের শিক্ষক আবুল স্যারকে। একটা চক, ডাস্টার আর একটা শক্ত বেত হাতে লম্বা লম্বা পায়ে মাঠ পেরিয়ে ক্লাসে আসতেন তিনি। তাঁর চেহারায় থাকতো শিকারি বাঘের মতো হিংস্র গাম্ভীর্য, মুখে কয়েক দিনের না কামানো খোঁচা খোঁচা দাড়ি, চোখের তীব্র মণি দুটো সদা ঘুর্ণায়মান।
‘কে কে বাড়ির কাজ করিস নাই, উঠে দাঁড়া!’
ক্লাসে ঢুকে শীতল কন্ঠে বলতেন তিনি। প্রতি ক্লাসেই কয়েকজন অপরাধী থাকতো। বিশেষ করে ছেলেরা। তাদেরকে প্রথমে বেঞ্চের ওপর কান ধরে দাঁড় করানো হতো। তারপর শুরু হতো পিটুনি। বেতের ওঠানামায় বাতাসে সাঁই সাঁই শব্দ উঠতো। একেকটা ছেলে ভয়ানক যন্ত্রণায় বেঁকেচুড়ে কুঁকড়ে যেত। একটু রোগাটে ছেলেগুলো ‘ও স্যার, ও স্যার, আর করবো না স্যার!’ বলে চিৎকার করে কাঁদতো। কেউ কেউ বেঞ্চের নিচে পালাতে চাইতো, স্যার কান ধরে টেনে তুলে তাদের আবার পিটাতেন। সমস্ত ক্লাস আতংকে সিঁটিয়ে থাকতো। বাড়ির কাজ খেলাপি ছাত্রীদের সামনে এসে বলতেন, ‘হাত পাত!’
ভয়ে ভয়ে মেয়েরা তাদের হাতের তালু সামনে মেলে দিত। স্যারের হাতের বেত সজোরে নেমে আসতো সেই খোলা হাতের নরম তালুর ওপর। বেতের দাগ কেটে কেটে বসে যেত কোমল করতলে।

আমি মারের ভয়ে পারতপক্ষে বাড়ির কাজে ফাঁকি দিতাম না। তবে মাঝে মাঝে তিনি ক্লাসের একেকজনকে ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে ডাকতেন। হাতে চক ধরিয়ে দিয়ে বলতেন, অমুক অংকটা কর! তার ভয়ানক চেহারার সামনে নার্ভাস হয়ে অনেকে পারা অংকও ভুলে যেত। ব্যাস, স্যারের বেতের বাড়ি তখন আর একটাও মাটিতে পড়তো না। একদিন অংক ভুল করায় একটা রোগা পাতলা ছেলেকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত সমস্ত শক্তি দিয়ে পিটালেন স্যার। ছেলেটা ‘ও বাবা’ ‘ও মা’ ‘ও স্যার’ বলে গগনবিদারী চিৎকার করে কাঁদলো। হাত জোড় করলো, স্যারের পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়লো। কিন্তু স্যারের সামান্য দয়াও হলো না। বাতাসে শিষ কেটে সপাং সপাং শব্দ তুলে বেতের বাড়ি চললো, যতক্ষণ না তিনি ক্লান্ত হয়ে ক্ষান্ত দিলেন।
আমি তেমন মার খাইনি কিন্তু চোখের সামনে এমন নির্মম দৃশ্য দেখে আমি খুব ভয় পেতাম, শিউরে উঠতাম, রাগে দুঃখে চোখ ভিজে যেত আমার। একদিন স্যার চলে যাবার পর আমার এক সহপাঠি বান্ধবীকে (!) সরল মনে নিজের মনের কথাটাই বললাম, ‘আমার কি মনে হয় জানিস, স্যারকে যদি কেউ একদিন এভাবে মারতো, বেত দিয়ে পিটাতো, তাহলে স্যার বুঝতে পারতো ওই ছেলেদের কেমন কষ্ট লাগে!’
তো আমার মহান বান্ধবী পরদিন আবুল স্যার ক্লাসে আসার পর উঠে দাঁড়িয়ে বললো, ‘স্যার, মুন্নী বলছে, আপনাকে যদি কেউ বেত দিয়ে পিটাতো তাইলে আপনি বুঝতেন পিটালে ছেলেদের কেমন লাগে!’
স্যারের চেহারা রাগে লাল হয়ে গেল। তিনি জ্বলন্ত চোখে আমার দিকে তাকালেন,
‘কিরে, সত্যিই তুই বলছিস এমন কথা?’
আমি আতংকে উৎকন্ঠায় জমে বরফ হয়ে গেলাম। হ্যাঁ, না, কিছুই বলতে পারলাম না। বান্ধবির বিশ্বাসঘাতকতায় হতভম্ভ হয়ে এবং এই ঘটনার সম্ভাব্য পরিণতি কি হতে পারে তা ভেবে নীরবে দাঁড়িয়ে মাথা নিচু করে কাঁদতে থাকলাম।
স্যার বললেন, ‘যে অন্যায় তুই করছিস তার বিচার আমি করব না, তোকে হেডস্যারের কাছে নিয়ে যাবো, তিনি এর বিচার করবেন! চল, হেডস্যারের রুমে চল!’
স্যার আমার হাত ধরে টেনে মাঠ পেরিয়ে হেডস্যারের রুমের দিকে নিয়ে চললেন। আমার দুই চোখের অশ্রুধারা ততক্ষণে গাল বেয়ে নেমে বুক ভাসিয়ে দিচ্ছে। হেঁচকি তোলার মতো শব্দ করে কাঁদছি আমি। ঠিক সেই সময় মাঠের ওই পার থেকে মানে বিপরীত দিক থেকে ডলি আপা আসছিলেন। তিনি এই দৃশ্য দেখে স্যারের মুখোমুখি থমকে দাঁড়ালেন। অবাক হয়ে বললেন, ‘কি হয়েছে স্যার? মেয়েটা এমন কাঁদছে কেন? ওকে নিয়ে কই যান?’
‘আর বলবেন না আপা, আজকালের স্টুডেন্ট কত বেয়াদব হয়েছে, ও বলে কিনা ..’
স্যার সংক্ষেপে বিস্তারিত ঘটনা খুলে বললেন। ডলি আপা শান্ত কন্ঠে বললেন, ‘এই জন্য আপনি ওকে এইভাবে টানতে টানতে হেডস্যারের কাছে নিচ্ছেন? ছাড়েন ওকে।’
ডলি আপা নিজেই এসে স্যারের শক্ত মুঠো থেকে আমার হাত ছাড়িয়ে নিলেন।
তারপর বললেন, ‘ও তো ঠিকই বলেছে, আপনি যেভাবে গরু ছাগলের মতো ছাত্রদের পিটান, এটা কোন মানুষের কাজ হতে পারে? পাশের ক্লাস থেকে আমরা ছেলেদের কান্না শুনতে পাই! এটা আপনি মোটেও ঠিক কাজ করেন না, স্যার।’
আবুল স্যার এইরকম প্রতিক্রিয়া শোনার জন্য একটুও প্রস্তুত ছিলেন না। তিনি হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। আপা আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘যাও, তুমি ক্লাসে যাও।’
আমি মুহুর্তমাত্র দেরি না করে এক দৌড়ে ক্লাসে ফিরে এলাম।

আমাদের আরেকজন বদরাগি আপা ছিলেন সুমাইয়া আপা। তিনি অবশ্য পিটাতেন না কিন্তু মেয়েদের প্রচণ্ড বকাঝকা করতেন।
ক্লাস নাইনে আমাদের অর্থনীতি পড়াতেন জিনাত আপা। দেখতে ছিলেন অসাধারণ সুন্দরী ও স্মার্ট। ক্লাসে সহজে হাসতেন না বলে সবাই বলতো উনি খুব রাগি কিন্তু আমরা যারা প্রতিদিন ক্লাসের পড়া শিখে আসতাম তাঁদের প্রতি জিনাত আপার কোমল পক্ষপাত ছিল। সেটি খুবই সুক্ষ্ম কিন্তু উষ্ণ। অপ্রকাশিত কিন্তু অনুভবগ্রাহ্য। জিনাত আপা খুব উচ্চধারণা পোষণ করতেন আমাকে নিয়ে। কোনদিন যদি বলতাম, আপা আজকে পড়া শিখে আসিনি। তখন তিনি আর কাউকে পড়া ধরতেন না। বলতেন, ‘তুমিই যখন পড়ে আসোনি তখন অন্যরা কি আর পড়বে?’
আরেকজন স্নেহপরায়ণ শিক্ষক ছিলেন আমাদের হেডস্যার খালেদ মোমিন। সৌম্য চেহারা, দীর্ঘদেহী, ফর্সা, মুখে কাঁচাপাকা দাড়ি, সবসময় সাদা রঙের পাঞ্জাবি পায়জামা পরে থাকতেন তিনি। নাইন টেনে আমাদের ইংরেজি পড়াতেন। ক্লাসের প্রতিটি ছাত্র ছাত্রীকে নাম ধরে চিনতেন স্যার। কার কোন বিষয়ে দুর্বলতা সেটিও ছিল তার নখদর্পণে। গণিতে আমার দুর্বলতা নিয়ে বেশ চিন্তিত ছিলেন তিনি।
প্রি-টেস্টে অংকে খারাপ ভাবে ফেল করায় মেট্রিক কিভাবে পাশ করব ভেবে আমার মা-ও খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন। তিনি কোথা থেকে একজন গৃহশিক্ষক জোগাড় করলেন শুধু পরীক্ষার আগের তিনমাস আমাকে অংক (গিলানোর) শেখানোর জন্য। গৃহশিক্ষকের নাম বাবু যতীন্দ্রনাথ। গায়ের রং তার বেশ চাপা, ক্ষীণদেহী, সামনের দাঁতগুলো সামান্য উঁচু, সাদা শার্ট আর ধুতি পরতেন, সবসময় একটা কালো রঙের সাধারণ ছাতা থাকতো তাঁর হাতে, রোদ, বর্ষা, বৃষ্টি, ঝড়, তুফান, সাইক্লোন, ভুমিকম্প, জ্বর, ঠান্ডা কোন কিছুই তাঁকে বিরত রাখতে পারতো না, প্রতিদিন সকালে নির্ধারিত সময়ে ছাতাটা বগলে নিয়ে তিনি আমাদের বাসায় এসে হাজির হতেন। আমাকেও বিরসমুখে নিউজপ্রিন্টের মোটা মোটা খাতায় বলপেনের আঁচড়ে আঁক কষতে হতো। এই স্যারের কৌশল ছিল পুনঃ পুনঃ অনুশীলন করানো, নিজে সামনে বসিয়ে একই অংক বার বার, কখনো ৫০/৬০ বারও করাতেন তিনি। থাকতেন দেড় থেকে দুই ঘন্টা। অংক করতে করতে বিরক্ত হয়ে যেতাম কিন্তু স্যার অবিচল। এমন নিবেদিতপ্রাণ, নিষ্ঠাবান গৃহশিক্ষক আজকের দিনে হয়তো বিরল।

দুই বছরের কলেজ জীবনে দুইজন বিদেশী শিক্ষকের কথা মনে পড়ে। সিস্টার জোসেফ মেরি। মাথায় ছোট করে ছাটা সোনালি চুল, হাসিখুশি মুখ, সামনের দিকে একটু ঝুঁকে হাঁটতেন, তাঁর খয়েরি শার্ট ইন করা থাকতো হাটু পর্যন্ত ঢাকা কালো স্কার্টের ভেতর। তিনি আমাদের কবি ওয়ার্ডসওর্থের লেখা ডেফোডিল কবিতাটি পড়িয়েছিলেন প্রায় এক বছর ধরে। হাতে করে একটা কৃত্রিম ডেফোডিল ফুল নিয়ে তিনি ক্লাসে আসতেন আর দুলে দুলে আবৃত্তি করতেন, “আই ওয়ান্ডারড লোনলি এস এ ক্লাউড ..’
তখন এতো বুঝতাম না যে, এই কবিতার মধ্য দিয়ে প্রকৃতির জগত থেকে আনন্দ ও অনুপ্রেরণা আহরণের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরেকজন সিস্টার ছিলেন ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পড়াতেন। সিস্টার রোজ বার্নার্ড। তারও ছোট চুল তবে সাদা রঙের। গুরুগম্ভির চেহারা। কখনোই তাকে কেউ হাসতে দেখিনি, প্রয়োজনীয় কথার বাইরে কথাও বলতেন না। তাঁর নেয়া প্রথম ক্লাস পরীক্ষায় অধিকাংশ মেয়েই ফেল করলো। খাতা ফিরিয়ে দেয়ার সময় তিনি উচ্চস্বরে ঘোষণা দিতেন, ‘ইউ গট আ বিগ জিরো!’
জিরো তো জিরোই সেটা বিগ আর স্মল হলেই বা কি?
ছাত্রীরা ফিসফিস করতো, রোজ বার্নার্ড মুখে বলেন না কিন্তু আসলে বাংলা ঠিকই ভাল বোঝেন। একবার নাকি কোন মেয়ে তার সামনে দাঁড়িয়েই বাংলা ভাষায় তাকে বকাবকি করছিল। ভেবেছিল বুঝবে না। কিন্তু রোজ বার্নার্ড ঠিকই বুঝেছিল আর ওই ছাত্রীর অভিভাবককে ডেকে এনে তাকে কলেজ থেকে বের করে দিয়েছিল।
বাংলা পড়াতেন রাজিয়া জামান আর প্রীতি করিম ম্যাডাম। আমাদের পাঠ্য ছিল কবি জসিমউদ্দীনের নিমন্ত্রণ কবিতাটি। পরীক্ষার খাতায় ব্যাপক উৎসাহে সেই কবিতায় যা নেই তাও ব্যাখ্যা করেছিলাম আমি। ম্যাডাম খাতায় লিখে দিলেন, ‘অযথা কাব্য করবে না।’
সে আমার এক ভাল শিক্ষা হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বেশ নামকরা শিক্ষকরা পড়িয়েছেন আমাদের। যেমন, রঙ্গলাল সেন, সাদউদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান, হেলালউদ্দীন খান শামসুল আরেফিন, আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরীসহ আরো অনেকে। তবে সেকেন্ড ক্লাস পাওয়া ছাত্রী ছিলাম বলে শিক্ষকদের সাথে সম্পর্ক ওই ক্লাসরুমে ক্লাস করা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। তার বাইরে স্যারদের সাথে ব্যক্তিগত যোগাযোগ রাখা, ক্লাশের পরে দেখা করা, স্যারদের রুমে যাওয়া (আমাদের সময় ফার্স্ট ক্লাশ পেতে হলে যেসব করতে হতো বলে কথিত আছে) সেসব আমি কখনোই করিনি। ফলে সেই শিক্ষকরা আমার জীবনে দূরের নক্ষত্র হয়েই আছেন। তাঁরা নমস্য।
আমার সরাসরি শিক্ষক নয় কিন্তু যারা এই জীবনে শিক্ষকেরও অধিক, এমন দুজন মানুষের নাম করতেই হয়। একজন প্রয়াত প্রফেসর মুহম্মদ হারুনউর রশিদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক, অন্যজন প্রফেসর সৈয়দ আকরম হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক।
এই দুইজনের সাথেই আমার পরিচয় জীবনসঙ্গী বন্ধুবর সরকার আমিনের সূত্রে। আমিন বলে, তার জীবন গড়ে তুলতে এই দুই শিক্ষক অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। তাঁদের অমিয় স্নেহসুধা আমিনের জীবনপাত্র উপচে আমার ওপর গড়িয়ে পড়েছে। হারুন স্যার ছিলেন আমাদের পিতৃপ্রতিম। জীবনের সকল ভাল-মন্দ, সুখ-দুঃখে অভিভাবকের মতো তাঁর প্রীতিকর উপস্থিতি, মমতাপূর্ণ পরামর্শ আমাদের স্বস্তি দিয়েছেন। একই কথা প্রযোজ্য সৈয়দ আকরম হোসেনের ক্ষেত্রেও। এখনো তাঁর আশীর্বাদ ও ভালবাসার হাতটি আমাদের মাথার ওপর ছায়া হয়ে আছে।

এছাড়া সবচে বড় শিক্ষক হিসেবে মানি প্রকৃতিকে। উদারতা, নম্রতা, বিনয়, পরমতসহিষ্ণুতা আর ভালবাসার শিক্ষা প্রকৃতি ছাড়া আর কেই-বা দেবে? প্রকৃতি ধৈর্য্য ও স্থিরতা শিখিয়েছে, বুঝিয়েছে সরলতার মাহাত্ম্য। একটি ভারসাম্যপূর্ণ সহজ জীবনযাপনের শিক্ষা আমি প্রকৃতি থেকেই পেয়েছি।

মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। আবশ্যক ঘরগুলো * দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে