স্মৃতির রেখায় একশ বছর আগের বাংলা ★ ওমর কায়সার

একশ বছর আগের বাংলা।  কেমন ছিল ভূখণ্ডটি ? তার প্রকৃতি, মানুষ, সংস্কৃতি, জীবনযাপন কেমন ছিল? সেই সময়ের নদী, মাঠ, বনপথ কিংবা জনপদের ভেতর দিয়ে মানুষের দিনযাপন কীভাবে প্রবাহিত হতো? সেই বর্ণনা যদি আমরা পাই কোনো কালজয়ী কথাসাহিত্যিকের ধ্রুপদী ভাষায়, তবে তা নিছক স্মৃতিচারণ থাকে না—তা হয়ে ওঠে এক যুগের জীবন্ত দলিল। স্মৃতির রেখা ঠিক তেমনই এক অনন্য গ্রন্থ।
“দিনলিপি সাধারণত ব্যক্তিগত স্মৃতির ভাণ্ডার। কিন্তু বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ‘স্মৃতির রেখা’ সেই ব্যক্তিগত পরিসর অতিক্রম করে হয়ে উঠেছে সময়, সমাজ ও প্রকৃতির এক অনন্য দলিল। এখানে যেমন আছে গ্রামবাংলার নিসর্গ, তেমনি আছে মানুষের সুখ-দুঃখ, জীবন ও মৃত্যুচিন্তা, একাকিত্ব, স্মৃতি ও অনন্তের অনুভব। বিভূতিভূষণের গভীর জীবনবোধ ও প্রকৃতিপ্রেম এই দিনলিপির প্রতিটি পাতাকে দিয়েছে এক ধ্রুপদী সৌন্দর্য। একশ বছর আগের বাংলাকে জানতে, সেই সময়ের মানুষের অন্তর্জগৎ অনুভব করতে এবং বাংলা গদ্যের অপূর্ব মাধুর্য আস্বাদন করতে ‘স্মৃতির রেখা’ নিঃসন্দেহে বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।”

স্মৃতির রেখা পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে, আমি যেন একশ বছর আগের বাংলার ভেতর দিয়ে হেঁটে চলেছি। এটি কেবল একটি দিনলিপি নয়, বরং সময়, প্রকৃতি ও মানুষের জীবনের এক গভীর শিল্পিত দলিল। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নিখুঁত পর্যবেক্ষণশক্তি ও অসাধারণ ভাষার মাধ্যমে এমন এক জগৎ নির্মাণ করেছেন, যেখানে গ্রামের পথ, নদীর তীর, সন্ধ্যার আলো, শালবনের নীরবতা কিংবা সাধারণ মানুষের মুখও আলাদা এক সৌন্দর্য নিয়ে ধরা দেয়।
আসুন একটু পাঠ করি , ঘুরে আসি একশ বছর আগের বাংলায়। ১৯২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ভাগলপুরে লিখেছিলেন ‘‘অসীম অনন্ত রহস্যভরা আকাশ-স্তব্ধ রাত্রি। পৃথিবী সুপ্তির অন্ধকারভরা। এখানে ওখানে দুই একটা কুকুর ঘেউ ঘেউ করছে মাত্র; মাঝে মাঝে বাতাস লেগে নিমগাছের ডালপালার মধ্যে সির সির শব্দ হচ্ছে। আকাশ অন্ধকার, পথিবী অন্ধকার। আকাশে বাতাসে একটা নীরবতা। অন্ধকার আকাশে নিমপাতার ফাঁক দিয়ে একটা তারা যেন অসীম রহস্যের বুকের স্পন্দনের মতো ঢিপ ঢিপ করছে। তারাটা ক্রমে নেমে যাচ্ছে-আগে যেখানে ছিল ক্রমে তা থেকে নিচে নামছে। এই অনন্ত, সনাতন জগৎটা যে কী ভয়ানক, রুদ্র লীলা প্রচ্ছন্ন করে রেখে দিয়েছে তা ঐ সঞ্চরমান তারাটিকে দেখলে বোঝা যায়। অন্ধকারের পিছনে একটা অসীম অনন্ত সৌন্দর্যলোক যেন আবছায়া আবছায়া চোখে পড়ে। ঐ তারার হয়ত একটা স্বাতী নক্ষত্র আছে। তা পার্থিব চোখের বাইরে, হয়ত তাদেরও একটা আমাদের মতো উন্নত ধরনের জীব থাকত। কী হয়ত আমাদের চেয়েও উন্নততর বিবর্তনের প্রাণীর বাস। কী তাদের সভ্যতা, কী তাদের ইতিহাস, কী তাদের প্রেম স্নেহ, জ্যোৎস্না সৌন্দর্য… জানতে ইচ্ছা যায়। এই রহস্যভরা বিশ্বের বুকের স্পন্দনটা কান পেতে শুনতে ইচ্ছে হয়-আরো কত নক্ষত্র, কত জগৎ, কত প্রেম, কত মহিমা, কত সৌন্দর্য, অব্যক্ত, বিশাল, বিপুল, অসীম চারধারে ছড়ানো। তা লোক-কোলাহলে শোনা যায় না। এই রকম গভীর রাত্রিতে এই রকম নির্জন জানালার ধারে বসে এক মনে আঁধারভরা আকাশের স্পন্দনমান নক্ষত্ররাজির দিকে চেয়ে থাকলে গভীর রাতের দক্ষিণ বাতাস যখন কালো গাছপালার মধ্যে সির সির বয়ে যায় তখন যেন মাঝে মাঝে অস্পষ্ট তার বুকের স্পন্দন শুনতে পাওয়া যায়। ’’ উদ্ধৃতি একটু বড় হয়ে গেল। সত্যি লোভ সামলানো কঠিন। বাংলা সাহিত্যে প্রকৃতিকে এত গভীর অন্তর্জাগতিক অনুভূতির সঙ্গে খুব কম লেখকই মিলিয়ে দিতে পেরেছেন, যতটা পেরেছেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই ডায়েরির অংশে প্রকৃতি কেবল দৃশ্য নয়, যেন এক মহাজাগতিক দরজা—যার সামনে দাঁড়িয়ে মানুষ হঠাৎ নিজের ক্ষুদ্রতা, বিস্ময় এবং অস্তিত্বের গভীর রহস্য অনুভব করতে শেখে। এই বর্ণনায় রাতের নিস্তব্ধতা এত সূক্ষ্মভাবে ধরা পড়েছে, পাঠক যেন নিজেই সেই নির্জন জানালার ধারে গিয়ে বসে পড়ে। “নিমপাতার ফাঁক দিয়ে একটা তারা”—এই ক্ষুদ্র দৃশ্যটিকেই বিভূতিভূষণ এমনভাবে দেখিয়েছেন তা আর সাধারণ তারা থাকে না, সেটি হয়ে ওঠে “অসীম রহস্যের বুকের স্পন্দন।” প্রকৃতি নিছক বাহ্যিক নয়, তার ভেতরে আছে এক জীবন্ত সত্তা। বাতাসের “সির সির” শব্দ, দূরের কুকুরের ডাক, অন্ধকার আকাশ—সব মিলিয়ে তিনি এমন এক পরিবেশ নির্মাণ করেছেন, যেখানে নীরবতাও যেন কথা বলে।  প্রকৃতির বর্ণনা থেকে তিনি মানুষকে নিয়ে যান বিশ্বজগতের অনন্ত রহস্যের কাছে। একটি চলমান তারাকে দেখে তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে—ওই নক্ষত্রলোকেও কি প্রাণ আছে? তাদেরও কি প্রেম, ইতিহাস, সভ্যতা আছে? এই প্রশ্নগুলো কেবল জ্যোতির্বিজ্ঞানের কৌতূহল নয়, মানুষের চিরন্তন অস্তিত্বজিজ্ঞাসা। মহাবিশ্বের অসীমতার সামনে দাঁড়িয়ে মানুষ তখন নিজের সীমাবদ্ধতাকে অনুভব করে, আবার একই সঙ্গে অনুভব করে নিজের কল্পনা ও চেতনার অসীম শক্তিকেও।

বিভূতিভূষণের প্রকৃতি নিছক সৌন্দর্যের নয়, তা এক গভীর আধ্যাত্মিক অনুভবের পথ। তাঁর লেখায় রাতের আকাশ যেন ঈশ্বরের নীরব গ্রন্থ আর নক্ষত্রগুলো তার অক্ষর। লোক-কোলাহলের বাইরে, গভীর রাত্রির নির্জনতায় বসে তিনি যে “বিশ্বের বুকের স্পন্দন” শুনতে চান, তা আসলে মানুষের অন্তরেরই এক সুদূর আহ্বান—অজানাকে জানার, অসীমকে অনুভব করার।

এই কারণেই তাঁর প্রকৃতিচিত্র পাঠকের মনে শুধু সৌন্দর্যের আবেশ সৃষ্টি করে না, তা মানুষকে এক অনন্ত বিস্ময়ের সামনে দাঁড় করায়। পাঠক অনুভব করে, পৃথিবীর দৃশ্যমান জীবনের বাইরে আরও কত অদেখা জগৎ, কত অনুচ্চারিত প্রেম, কত অজানা মহিমা ছড়িয়ে আছে মহাশূন্যের নিস্তব্ধতায়। বিভূতিভূষণের কলম সেই অদৃশ্য রহস্যলোকের দিকেই আমাদের চোখ তুলে দেয়।

এই কারণেই সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ হয়েছি তাঁর প্রকৃতিদর্শনে। প্রকৃতিকে তিনি নিছক দৃশ্য হিসেবে দেখেননি, যেন জীবনের গভীর সত্য, আনন্দ ও রহস্যের উৎস হিসেবে অনুভব করেছেন। গাছপালা, পাখি, নদী কিংবা অন্ধকার রাত—সবকিছুর মধ্যেই তিনি খুঁজে পেয়েছেন জীবনের এক অনন্ত সঙ্গীত। তাঁর ভাষা কখনো কবিতার মতো কোমল, কখনো দার্শনিকের মতো গভীর।

দিনলিপির আরেকটি বড় আকর্ষণ হলো এর মানবিকতা। বিভূতিভূষণ নিজের স্মৃতি, একাকিত্ব, অভাব কিংবা মৃত্যুচিন্তার কথাও অত্যন্ত আন্তরিকভাবে লিখেছেন। ফলে বইটি পড়তে গিয়ে মনে হয়, লেখকের সঙ্গে এক অন্তরঙ্গ আলাপ চলছে। বিশেষ করে তিনি যখন ভাবেন—হয়তো একশ বছর পরে কেউ তাঁর লেখা পড়বে—তখন আজকের পাঠক হিসেবে সেই মুহূর্তে এক অদ্ভুত আবেগ তৈরি হয়।

বিভূতিভূষণের সব লেখা কালজয়ী। কিন্তু পথের পাঁচালী সবচেয়ে বেশি আলোচিত ও পরিচিত। এই উপন্যাসকে অবলম্বন করে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণের পর এর তাৎপর্য, মর্যাদা এবং গণ্ডি বাংলাভাষীদের মানচিত্র ছাড়িয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। তাই এই পথের পাঁচালীর প্রতি মানুষের কৌতূহল চিরকাল। বিভূতিভূষণ ১৯২৫ সালে ভাগলপুরেই পথের পাঁচালী রচনা শুরু করেন। তিনি স্মৃতির পাতায় এ সম্পর্কে লিখেছেন — ‘‘ জগতের অসংখ্য আনন্দের ভাণ্ডার উম্মুক্ত আছে। গাছপালা, ফুল পাখি, উদার মাঠ ঘাট, … অস্ত সূর্যের আলোয় রাঙা নদী তীর, অন্ধকার নক্ষত্রময়ী উদার শূন্য জগতের শতকরা ৯৯ জন লোক এ আনন্দের অস্তিত্ব সম্বন্ধে মৃত্যুদিন পর্যন্ত অনভিজ্ঞই থেকে যায়। …. সাহিত্যেকের কাজ হচ্ছে এই আনন্দের বার্তা সাধারণের প্রাণে পৌঁছে দেওয়া। তারা ভগবানের প্রেরণা নিয়ে এই মহতী বার্তা, এই অনন্ত জীবনের বাণী শোনাতে জগতে এসেছে… এই কাজ তাদের করতে হবেই… তাদের অস্তিত্বের  এ–ই শুধু সার্থকতা।
বোঝা যায় কী বিশাল দায় নিয়ে তিনি পথের পাঁচালী লিখতে বসেছিলেন।  পথের পাঁচালী রচনা সম্পর্কে ২০ নভেম্বর ১৯২৫ সালের ডায়েরিতে আরও তথ্য পাওয়া যায় — “সন্ধ্যার সময় টেবিলে আলো জ্বলছে। লেখার পাতাগুলো ছড়ানো আছে। ফুলদানিটাতে Chryasanthemum, কলা ফুল। এই সন্ধ্যা, এই লেখবার টেবিল অত্যন্ত রহস্যময়, অর্থযুক্ত…হয়ত একান্ন বৎসর পরে আমার কোনো চিহ্নও পৃথিবীতে খুঁজে মিলবে না, কিন্তু আমার এই লেখা হয়ত থেকে যাবে। হয়ত কত লোকের মনে আশা সান্ত্বনা দেবে। হয়ত পাঁচশত বছর পরে যদি আমার লেখা বেঁচে থাকে তবে আমি এই আমি-এই অত্যন্ত জীবন্ত প্রত্যক্ষ আমি, অনেক প্রাচীনকালের এক লেখক হয়ে যাব। আমার বই-পত্তর বড়ো বিশেষ কেউ ছোঁবে না। তখনকার দিনের নতুন নতুন উদীয়মান লেখকদের বই সব খুব চলবে। অনাগত ভবিষ্যতের সেসব বংশধরগণের জন্যে আমি আলো জ্বেলে তেল খরচ করে, আমার যথাসাধ্য বুদ্ধির অর্ঘ্য, যতই সামান্য হোক, যতই অকিঞ্চিৎকর হোক তবুও দেব, দিতেই হবে। মনের মধ্যে সে প্রেরণা যেন অনুভব করছি; তারপরে তা বাঁচুক আর না বাঁচুক। আমি আর দেখতে আসব না। আমার ফুলদানির এই অত্যন্ত বড়ো বড়ো ও সুন্দর Chrysanthemum ফুলটা আর বছর এ সময় কোথায় থাকবে? আমি বছর পরে আমি কোথায় থাকব?”
এই অনুচ্ছেদ পড়লে মনে হয়, একজন লেখক লিখছেন না—নিজের ক্ষণস্থায়ী জীবনের ভেতর দাঁড়িয়ে সময়ের অনন্ত প্রবাহের সঙ্গে কথা বলছেন। এখানে একই সঙ্গে গভীর নিঃসঙ্গতা, বিনয়, মৃত্যু-চেতনা এবং সৃষ্টির অমরত্ববোধ মিলেমিশে গেছে।

সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করে তাঁর সেই উপলব্ধি—মানুষ চলে যায়, কিন্তু শিল্প থেকে যেতে পারে। তিনি জানেন, “এই অত্যন্ত জীবন্ত প্রত্যক্ষ আমি” একদিন আর থাকবে না। ফুল শুকিয়ে যাবে, টেবিল হারিয়ে যাবে, তাঁর নিজের অস্তিত্বও সময়ের মধ্যে মিশে যাবে। কিন্তু তবু তিনি লিখছেন। কেন? কারণ ভবিষ্যতের অচেনা মানুষের কাছে নিজের সামান্য আলো পৌঁছে দেওয়ার দায় তিনি অনুভব করছেন। এই দায়টাই একজন সত্যিকারের শিল্পীর ধর্ম।

তার লেখার সৌন্দর্য আরও গভীর হয়েছে তার দৃশ্যকল্পে। টেবিলের আলো, ছড়ানো পাণ্ডুলিপি, ফুলদানির Chrysanthemum—এসব শুধু বস্তুর বর্ণনা নয়; এগুলো সময়ের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষুদ্র অথচ অনমনীয় অস্তিত্বের প্রতীক। মনে হয়, নিঃশব্দ এক সন্ধ্যায় একজন মানুষ বসে আছেন, আর তাঁর চারপাশে অনন্তকাল ধীরে ধীরে নেমে আসছে।
আরেকটি বিষয় আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে—তাঁর বিনয়। তিনি নিজের লেখাকে “অকিঞ্চিৎকর” বলছেন, অথচ সেই সামান্য অর্ঘ্যও ভবিষ্যতের মানুষের জন্য দিয়ে যেতে চান। এই বিনয়ের মধ্যেই তাঁর মহত্ত্ব। বড় লেখকেরা হয়তো এমনই—তাঁরা নিজের কীর্তিকে নয়, মানুষের হৃদয়ে তার সম্ভাব্য আলোকে বেশি বিশ্বাস করেন।
স্মৃতির রেখা পড়লে মনে হয়, পথের পাঁচালী কেবল একটি উপন্যাস নয়, এটি এক মানুষের সময়কে অতিক্রম করার আকাঙ্ক্ষা। আর আশ্চর্যের বিষয়—প্রায় একশ বছর পরে বসে আমরা তাঁর সেই কথাগুলো পড়ছি, অনুভব করছি। অর্থাৎ তিনি ঠিকই ভেবেছিলেন—তিনি না থাকলেও তাঁর টেবিলের আলো নিভে যায়নি।
ম্মৃতির রেখা পড়তে পড়তে মনে হলো যেন আমি মুদ্রিত একটা সময়যন্ত্রের মাধ্যমে চলে গেছি শতাব্দীকাল আগের একটা সময়ে। লেখকের জীবনের ঘ্রাণ পেলাম খুব কাছাকাছি থেকে। একজন জীবন্ত বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনুভব করেছি। ব্যক্তি বিভূতিভূষণের পারিবারিক জীবন, একান্ত যাপনকে উপলব্ধি করেছি। তার মায়ের কথা, বিবাহের কথা, স্ত্রীর মৃত্যুর বেদনা আমাদের ছুঁয়ে গেছে। প্রথম স্ত্রী গৌরী দেবীর কথা স্মৃতির রেখায় বেশ কয়েক জায়গায় উল্লেখ আছে।

‘স্মৃতির রেখা’ আমাকে শুধু একটি সময়কে চিনতে সাহায্য করেনি; বরং জীবন, প্রকৃতি ও মানুষের প্রতি নতুন করে মুগ্ধ হতে শিখিয়েছে। বইটি পড়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে তার আবেশ মনে রয়ে যায়। বাংলা সাহিত্যের একজন পাঠক হিসেবে এই বই আমার কাছে এক অনন্য পাঠ-অভিজ্ঞতা।

মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। আবশ্যক ঘরগুলো * দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে